এন ফারাবি
বাপ-চাচাদের মুখে শোনা কথা-- এক-দুই দশক আগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স থাকতো ১৮-২০ বছর। কারণ ওই সময়ের ছেলে বা মেয়েরা একটু দেরিতেই স্কুলে ভর্তি হতো। ওই বয়সের ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে ভয় পেত। সেই ভয় ভাঙ্গাতে তার সঙ্গে পরিবারের লোকজনসহ আত্মীয়স্বজনরা এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতো। নানান জনের নানা পরামর্শ থাকতে তাদের প্রতি। কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট ঢুকছে এ খবর পেলে অনেকে আতংকে থাকতো। কখন যানি কি হয়!
সম্প্রতি সময়ে বাবা-মায়ের মনে একটা চিন্তা কাজ করে, কত দ্রুত, কিভাবে, কোথায় সন্তানকে পড়ালেখা করাতে হবে। এ নিয়ে তাদের ঘুম নষ্ট। শিশুরা যখন আড়াই থেকে তিন বছর বয়সে পা রাখে। মাত্র কয়েকটি কথা বলা শুরু করেছে তখনই বাচ্চাদের হাতে তুলে দেয়া হয় নানা জাতের রঙ-বেরঙয়ের বইপুস্তক। এখানেই শেষে নয়, এতো মাত্র শুরু। ৯-১১ বছর বয়সেই তাদের দিতে হয় জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষা। এতো অল্প বয়সে এতো বড় পরীক্ষা দিতে গিয়ে মানসিক ও শরীরিক চাপে থাকে কোমলমতি শিশুরা। এর চেয়ে বিপদজনক কথা হলো বাবা-মা থেকে শুরু করে শিক্ষক ও বড়দের নানা উপদেশ। যেমন:
‘এটা কিন্তু তোমার জীবনের প্রথম পরীক্ষা, মোটেও খারাপ করা যাবে না’, ‘এই পরীক্ষায় যদি তুমি খারাপ করো তাহলে সারা জীবনেও এই ভুলের মাসুল দিতে পারবে না’, ‘তোমার এই পরীক্ষার উপর নির্ভর করছে আমাদের মানসম্মান,’ ‘তুমি যদি এ প্লাস না পাও তাহলে আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবো না’, ‘ওমুকের ছেলে, তমুকের মেয়ে এতো ভালো রেজাল্ট করেছে তাই তোমাকেও দেখিয়ে দিতে হবে’।
হাই ভোল্টিজের এতো ওজনের কথাগুলোর যে কোনো একটাও যদি বলা হয়, তাহলে কি শিশু মনে এর প্রভাব পড়বে না? অবশ্যই পড়বে। তাহলে আমরা কি জেনে বুঝে এই কাজগুলো করছি? শুধু কি তাই, পিএসসি পরীক্ষা দিবে যে শিক্ষার্থী তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি চিন্তিত থাকতে হয় বাবা মাকে। সকালে স্কুল, দুপুরে খাওয়া-দাওয়া, বিকেলে কোচিং, সন্ধ্যায় বাসায় দু’টি শিক্ষক আসেন পড়াতে। এমন চিত্র রাজধানীর প্রায় পিএসসি পরীক্ষার্থীর বেলা হয়। একটি বছর কতটা চাপের উপর কাটাতে এই পরীক্ষার্থীকে সেটা কেবল সেই বোঝে।
এ বছর মোট ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রাথমিকে ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৩ ও ইবতেদায়িতে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৫ জন শিক্ষার্থী । দেশের ৭ হাজার ১৯৪টি ও বিদেশের ১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চলবে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
পরিসংখ্যান দেখে মনে হচ্ছে বেশ ভালো শিক্ষার্থী। এক মাস পর যখন রেজাল্ট দিবে তখনও থাকবে এ প্লাসের ছড়াছড়ি। কিন্তু গ্রামের কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে চিত্র আরো ভয়াবহ। গ্রামের এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে সন্তানরা একবার পিএসসি পরীক্ষায় ফেল করলে আর দ্বিতীয় বার পরীক্ষা দেয়া সুযোগ নেই। বাবা-মা সাফ জানিয়ে দেন, তোকে দিয়ে পড়ালেখা হবে না। তাই অনেক শিশু অল্প বয়সে বিদ্যালয় থেকে দূরে সরে যায়।
আর মন্ত্রণালয় থেকে বার বার বলা হয় এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে।
এখন প্রশ্ন??? দায়টা কার? শিশুর, যে এই আধুনিক সময়ে পৃথবীতে জন্ম নিলো। নাকি বাবা-মার। যারা চায় সন্তান অন্য সকল সন্তানের চেয়ে ভালো রেজাল্ট করুক। জীবনের সব ক্ষেত্রে যেনো এ প্লাস নিয়ে আসে। নাকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার। যেখানে এতো অল্প সময়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বোর্ড পরীক্ষার মতো এতো বড় দায়িত্ব। নাকি আধুনিক বিশ্বের। যেখানে তাল মিলাতে গিয়ে আমরা বেতাল হয়ে পড়ছি।
বাপ-চাচাদের মুখে শোনা কথা-- এক-দুই দশক আগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বয়স থাকতো ১৮-২০ বছর। কারণ ওই সময়ের ছেলে বা মেয়েরা একটু দেরিতেই স্কুলে ভর্তি হতো। ওই বয়সের ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে ভয় পেত। সেই ভয় ভাঙ্গাতে তার সঙ্গে পরিবারের লোকজনসহ আত্মীয়স্বজনরা এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতো। নানান জনের নানা পরামর্শ থাকতে তাদের প্রতি। কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট ঢুকছে এ খবর পেলে অনেকে আতংকে থাকতো। কখন যানি কি হয়!
সম্প্রতি সময়ে বাবা-মায়ের মনে একটা চিন্তা কাজ করে, কত দ্রুত, কিভাবে, কোথায় সন্তানকে পড়ালেখা করাতে হবে। এ নিয়ে তাদের ঘুম নষ্ট। শিশুরা যখন আড়াই থেকে তিন বছর বয়সে পা রাখে। মাত্র কয়েকটি কথা বলা শুরু করেছে তখনই বাচ্চাদের হাতে তুলে দেয়া হয় নানা জাতের রঙ-বেরঙয়ের বইপুস্তক। এখানেই শেষে নয়, এতো মাত্র শুরু। ৯-১১ বছর বয়সেই তাদের দিতে হয় জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষা। এতো অল্প বয়সে এতো বড় পরীক্ষা দিতে গিয়ে মানসিক ও শরীরিক চাপে থাকে কোমলমতি শিশুরা। এর চেয়ে বিপদজনক কথা হলো বাবা-মা থেকে শুরু করে শিক্ষক ও বড়দের নানা উপদেশ। যেমন:
‘এটা কিন্তু তোমার জীবনের প্রথম পরীক্ষা, মোটেও খারাপ করা যাবে না’, ‘এই পরীক্ষায় যদি তুমি খারাপ করো তাহলে সারা জীবনেও এই ভুলের মাসুল দিতে পারবে না’, ‘তোমার এই পরীক্ষার উপর নির্ভর করছে আমাদের মানসম্মান,’ ‘তুমি যদি এ প্লাস না পাও তাহলে আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারবো না’, ‘ওমুকের ছেলে, তমুকের মেয়ে এতো ভালো রেজাল্ট করেছে তাই তোমাকেও দেখিয়ে দিতে হবে’।
হাই ভোল্টিজের এতো ওজনের কথাগুলোর যে কোনো একটাও যদি বলা হয়, তাহলে কি শিশু মনে এর প্রভাব পড়বে না? অবশ্যই পড়বে। তাহলে আমরা কি জেনে বুঝে এই কাজগুলো করছি? শুধু কি তাই, পিএসসি পরীক্ষা দিবে যে শিক্ষার্থী তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি চিন্তিত থাকতে হয় বাবা মাকে। সকালে স্কুল, দুপুরে খাওয়া-দাওয়া, বিকেলে কোচিং, সন্ধ্যায় বাসায় দু’টি শিক্ষক আসেন পড়াতে। এমন চিত্র রাজধানীর প্রায় পিএসসি পরীক্ষার্থীর বেলা হয়। একটি বছর কতটা চাপের উপর কাটাতে এই পরীক্ষার্থীকে সেটা কেবল সেই বোঝে।
এ বছর মোট ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রাথমিকে ২৯ লাখ ৩০ হাজার ৫৭৩ ও ইবতেদায়িতে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৫ জন শিক্ষার্থী । দেশের ৭ হাজার ১৯৪টি ও বিদেশের ১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চলবে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
পরিসংখ্যান দেখে মনে হচ্ছে বেশ ভালো শিক্ষার্থী। এক মাস পর যখন রেজাল্ট দিবে তখনও থাকবে এ প্লাসের ছড়াছড়ি। কিন্তু গ্রামের কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে চিত্র আরো ভয়াবহ। গ্রামের এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে সন্তানরা একবার পিএসসি পরীক্ষায় ফেল করলে আর দ্বিতীয় বার পরীক্ষা দেয়া সুযোগ নেই। বাবা-মা সাফ জানিয়ে দেন, তোকে দিয়ে পড়ালেখা হবে না। তাই অনেক শিশু অল্প বয়সে বিদ্যালয় থেকে দূরে সরে যায়।
আর মন্ত্রণালয় থেকে বার বার বলা হয় এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে।
এখন প্রশ্ন??? দায়টা কার? শিশুর, যে এই আধুনিক সময়ে পৃথবীতে জন্ম নিলো। নাকি বাবা-মার। যারা চায় সন্তান অন্য সকল সন্তানের চেয়ে ভালো রেজাল্ট করুক। জীবনের সব ক্ষেত্রে যেনো এ প্লাস নিয়ে আসে। নাকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার। যেখানে এতো অল্প সময়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বোর্ড পরীক্ষার মতো এতো বড় দায়িত্ব। নাকি আধুনিক বিশ্বের। যেখানে তাল মিলাতে গিয়ে আমরা বেতাল হয়ে পড়ছি।
No comments:
Post a Comment
Note: Only a member of this blog may post a comment.